1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
র‌য়্যাল এনফিল্ডের ৩৫০ সিসির নতুন ৪ বাইকের যত ফিচার ঝালকাঠি থেকে ১১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ১০ দেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হলেন স্টার লাইনের হাজী আলাউদ্দিন তরুণরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নামুক আবার পেট্রোনাস লুব্রিক্যান্টস বিক্রি করবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশে ভারতীয় সব ভিসা সেন্টার বন্ধ মন্ত্রী এমপিদের দেশত্যাগের হিড়িক : নিরাপদ আশ্রয়ে পালাচ্ছেন অনেকেই বাস ড্রাইভার নিকোলাস মাদুরো আবারও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ইউএস-বাংলার দশম বর্ষপূর্তি : ২৪ এয়ারক্রাফট দিয়ে দেশে বিদেশে ২০ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা

ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনে ৯ বছরে কাজ না হলেও ফি দিতে হচ্ছে পরামর্শককে

জেসমিন মলি
  • আপডেট : বুধবার, ৩ মে, ২০২৩

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ বিধান আইনে ২০১৪ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া সরকার। পরামর্শক বা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট (পিএমসি) হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (ইআইএল)। তবে দীর্ঘ নয় বছরেও এ প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি নেই। আবার কোনো কাজ না হলেও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে ঠিকই নিয়মিত ফি বাবদ দিতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটির সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ার অন্যতম কারণ ইস্টার্ন রিফাইনারির দুর্বলতা বা বাস্তবায়ন করতে না চাওয়া। নতুন করে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হলে ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও চিন্তা করতে হবে।
জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যমান ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে বছরে ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়, যা দেশের মোট চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ করে। বাকি চাহিদা পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে। এ আমদানিনির্ভরতা কমানোর জন্যই ৩০ লাখ টন ধারণক্ষমতা এবং ইউরো-৫ মানের গ্যাসোলিন ও ডিজেল প্রডাক্ট উৎপাদনের লক্ষ্যে ইআরএল ইউনিট-২ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিশেষ বিধান আইনে ২০১৪ সালে ইস্টার্নের দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার।
প্রকল্পের ফ্রন্টেড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন বা বেসিক ডিজাইনের জন্য ২০১৭ সালে একক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় ফ্রান্সের টেকনিপ কোম্পানিকে। ২০১৮ সালে কোম্পানিটি তার বেসিক ডিজাইন জমা দেয়। এরপর একটি বিড ডকুমেন্ট দিয়ে তাদের কাছ থেকে ইপিসি প্রস্তাব চাওয়া হয়। সে অনুযায়ী ২০১৯ সালে কারিগরি প্রস্তাব জমা দেয় কোম্পানিটি। তবে বিড ডকুমেন্ট ও কারিগরি প্রস্তাবের মধ্যে ৫৩৫টি পয়েন্টে ত্রুটি পাওয়া যায়। ত্রুটিগুলো সমাধানের জন্য ২০২০-২২ সাল পর্যন্ত টেকনিপের সঙ্গে আলোচনা করে ৩৬৭টির সমাধান করা সম্ভব হয়। এর মধ্যেই গত বছরের মে মাসে টেকনিপ চিঠি দিয়ে জানায়, তারা আর কাজটি করতে চায় না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানানো হলে ওই বছরের আগস্টে পরবর্তী কার্যক্রম নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ইপিসি বিডার নিয়োগ দেয়ার জন্য কনসালট্যান্টের মাধ্যমে সর্বজনীন একটি বিড ডকুমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, ‘বড় বড় মেগা প্রকল্প যেমন—কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা ব্রিজ, বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ইআরএল-২-এর এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। অথচ প্রকল্পটি বাস্তবায় হলে বর্তমানে জ্বালানি সংকট থেকে অনেকখানি পরিত্রাণ পাওয়া যেত।’ এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি না হওয়ার প্রকৃত কারণ কী, বৈঠকে তিনি জানতে চান।
জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারির দুর্বলতা বা বাস্তবায়ন করতে না চাওয়া। ইআরএল-১-কে নতুন প্রস্তাবের সঙ্গে সংযুক্ত করে ইস্টার্ন রিফাইনারি ইচ্ছাকৃতভাবে সমস্যাটি তৈরি করেছে। কারণ টেকনিপ পুরনো ইআরএলের শতভাগ পারফরম্যান্স গ্যারান্টি দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে। এছাড়া সেফটি জোনের নিরাপত্তা চাওয়া হলেও ইআরএল থেকে যথাযথ সাড়া দেয়া হয়নি। অন্যদিকে কোনো কাজ না হলেও কনসালট্যান্টকে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে হচ্ছে। নতুন করে শুরু করতে হলে প্রকল্প ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও চিন্তা করতে হবে।’
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশল মো. লোকমান যদিও বলেন, ‘টেকনিপের অনীহার কারণেই প্রকল্পটির এ অবস্থা। প্রায় দুই বছর আলোচনা করেও ১৬টি ইস্যু নিয়ে তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসা যায়নি। অথচ সেই ইস্যুগুলো আমাদের দেশের স্বার্থে খুবই জরুরি।’
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কিছু হোক ইআরএল কর্তৃপক্ষ তা চায় না। তারা পুরনোটি রাখতেই বেশি আগ্রহী। অথচ পুরনো রিফাইনারির পার্টস যতই পরিবর্তন করা হোক না কেন সেটা কখনই ইউরো-৫-এর সমতুল্য হবে না। কনসালট্যান্টসহ সবাইকেই পুরনো রিফাইনারিকে নুতন প্রস্তাবের সঙ্গে সংযুক্ত না করে আলাদা প্রস্তাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নতুন প্রস্তাবে পুরনোটিকে সংযুক্ত করায় প্রকল্পটির কোনো অগ্রগতিই হয়নি। এছাড়া এখানে স্পেয়ার পার্টস কেনার বিষয় জড়িত রয়েছে। ফলে সব দায়-দায়িত্ব ইআরএল বা বিপিসি কর্তৃপক্ষের। তাদের কোনো প্রকল্পেরই সঠিক অগ্রগতি নেই। ইস্টার্ন রিফাইনারি যথাসময়ে প্রস্তুত হলে ক্রুড অয়েল খুব কম দামে কেনা সম্ভব ছিল, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান বলেন, ‘গত মাসে প্রজেক্ট ইভ্যালুয়েশন বিষয়ে একটি মিটিং হয়েছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের লিকুইডেশন সার্টিফিকেট লাগবে। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।’ পরামর্শকদের অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্ট চালু হলে কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হবে। এখন কোনো অর্থ দিতে হচ্ছে না।’ উৎস : বণিক বার্তা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT