আকাশপথে যাত্রী পরিবহন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সাল নাগাদ কোম্পানিটি আরো ১৫০টি উড়োজাহাজ যুক্তের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী সংখ্যা তিন গুণ বাড়িয়ে তিন কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে উড়োজাহাজ সংস্থাটির। সম্প্রতি ইতিহাদের প্রধান নির্বাহী এ কথা জানান। আবুধাবিতে নতুন এয়ারপোর্ট টার্মিনাল বানানোর পাশাপাশি এসব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

এক সাক্ষাৎকারে প্রধান নির্বাহী আন্তোনোয়ালদো নেভেস বলেন, ‘প্রতি কিলোমিটারে যাত্রী বহন ও উপলব্ধ আসনের পরিপ্রেক্ষিতে সাত বছরে বার্ষিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মূলত ১০ বছরের মধ্যে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বাজারে স্বল্প ও লম্বা দূরত্বে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এছাড়া অনেক বেশি দূরত্বে যেসব ফ্লাইট পরিচালিত হতো, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। চীন, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যাত্রীদের ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যাতায়াতের সুবিধার্থেই এ পরিকল্পনা। এজন্য এক দশকের মধ্যে নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের মাধ্যমে আবুধাবি হাব ব্যবহার করা হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের শহরগুলোয় ফ্লাইট বাড়ানোর কারণে নেটওয়ার্ক আরো শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ট্রাফিকের কারণে আবুধাবি ভ্রমণের চাহিদাও বাড়বে। নেভেস বলেন, ‘এটি প্রবৃদ্ধির বা ব্যবসা বিস্তারের দ্বিতীয় অধ্যায়।’
২০২২ সালের অক্টোবরে ইতিহাদ এভিয়েশন গ্রুপ প্রধান নির্বাহী হিসেবে নেভেসকে টনি ডগলাসের স্থলাভিষিক্ত করে। নেভেস এর আগে পর্তুগিজ এয়ারলাইনস টিএপির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। আমিরাতকে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের অন্যতম হাবে পরিণত করতে আবুধাবি সরকার ইতিহাদ এভিয়েশন গ্রুপের মালিকানা এডিকিউ কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে আন্তোনোয়ালদো নেভেস টেকসইভাবে এয়ারলাইনসের বিস্তারে কাজ করছেন।

ইতিহাদ এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া আমাদের লক্ষ্য এবং আমার বিশ্বাস আমরা হতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে। কেননা বর্তমানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এগোচ্ছে এবং আমাদের থেমে থাকার সুযোগ নেই।’
২০৩০ সাল নাগাদ এয়ারলাইনসটি তিন কোটি গ্রাহকের মাইলফলকে প্রবেশ করতে চাইছে। গত বছর যার পরিমাণ ছিল এক কোটি। চলতি বছর এয়ারলাইনসটি ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী বহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বছরওয়ারি হিসাবে যা ২৩ শতাংশ বেশি বলে জানান নেভেস। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ১৫০টিতে উন্নীতের কথাও ভাবছে ইতিহাদ। বর্তমানে ৭০টি জেট উড়ছে এবং বছর শেষে তা ৮০টি উন্নীত হবে বলে জানা গেছে। নেভেস বলেন, ‘আগামী সাত বছরে এয়ারলাইনস কেন উড়োজাহাজের বহর দ্বিগুণ করতে পারবে না তা আমার মাথায় আসছে না। উপসাগরীয় অঞ্চল দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানকার অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসছে। পাশাপাশি সেখানে যাত্রী সংখ্যাও দ্বিগুণ বেড়েছে।’

চলতি বছর এয়ারলাইনসটি আরো ১৫টি উড়োজাহাজ চালু করবে। যেখানে পুনরায় সার্ভিসে ফিরে আসা ও নতুন উড়োজাহাজও থাকবে। এগুলোর মধ্যে চারটি এয়ারবাস এ৩৮০এস, ছয়টি এ৩২০, একটি সরু এ৩২১, দুটি বোয়িং ৭৭৭এস পুনরায় বহরে যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন তিনটি ৭৮৭এস যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া এয়ারলাইনসটি আরো বেশকিছু অঞ্চল এর তালিকায় যুক্ত করছে। এর মধ্যে রয়েছে লিসবন, ডুসেলডর্ফ, কলকাতা, কোপেনহেগেন, মালাগা ও মাইকোনোস।
Leave a Reply