১৯৯৮ সালে কেনা জমির মূল্য পরিশোধের পরও দলিল রেজিস্ট্রার বুঝিয়ে না দেওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ের (চট্টগ্রাম) চিফ এস্টেট এবং বিভাগীয় এস্টেট কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আগামী ১ জুন তাদেরকে স্বশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ‘আমরা শুনেছি রেলওয়ের গাফিলতিতে জনগণ হয়রানির শিকার হন। কিন্তু কেন সেটা আমরা গভীরভাবে দেখব। প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির পল্লব। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আলী হায়দার। রেলওয়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন।
পরে রিটকারীর আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম নাদিরা সুলতানা নামে এক নারীর পক্ষ থেকে জমি কিনে মূল্য পরিশোধের পরও তাকে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার কাগজপত্র না বুঝিয়ে দেওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালে রুল জারি করেন আদালত। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানির এক পর্যায়ে ঘটনাটি দুই যুগ অতিবাহিত হওয়ার পরও জমির রেজিস্টার বুঝিয়ে না দেওয়ার কী কারণ, সে বিষয়ে ওই দুই কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছেন।’

১৯৯৮ সালে বাংলদেশ রেলওয়ের জমি বিক্রির (দরপত্র) টেন্ডার ঘোষণা করে। ওই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন বেগম নাদিরা সুলতানা। সেই সময় ১৯.৭৫ কাঠা জমির জন্যে টেন্ডার ক্রয় করেন। সেখানে তিনি সবোর্চ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন।

এরপর টেন্ডারের শর্তাবলী মোতাবেক যথাসময়ে জমির সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করেন। তৎকালীন সময়ে প্রায় ১৪ লাখ টাকা দর ছিল রেলের ওই জমির। কথা ছিল জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যে (দলিল) রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। রেল কর্তৃপক্ষ দলিলও সম্পাদন করেছেন, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন ও দখল বুঝিয়ে দেয়নি। পরে জমির রেজিস্ট্রার ও দখল চেয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানিকালে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের তলব করেন।
Leave a Reply