ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে সাগর নন্দিনী-২ নামের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল আরো তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিখোঁজ চারজনের মরদেহ উদ্ধার হলো। এদিকে সাগর নন্দিনী-২ থেকে সাত লাখ লিটার পেট্রল পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। জ্বালানি তেল অপসারণের সময় গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১২ পুলিশ সদস্য দগ্ধ হন।

ঝালকাঠি থানার ওসি নাসির উদ্দিন সরকার জানান, শনিবার দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের সন্ধানে রোববার থেকে বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরিদল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। রোববার সন্ধ্যায় উদ্ধারকারী বিআইডব্লিউটিএর জাহাজ নির্ভীক ঝালকাঠি এসে পৌঁছায়।

গতকাল সকালে বিস্ফোরণে নদীতে ডুবে যাওয়া জাহাজের মাস্টার কেবিনের উদ্ধারের কাজ শুরু করা হয়। স্বজনের দাবি ছিল নিখোঁজদের মরদেহ জাহাজের ডুবে যাওয়া অংশের মধ্যে আছে। বেলা ১১টার দিকে প্রথমে জাহাজের সুপারভাইজার মাসুদুর রহমান বেলাল, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাস্টার রুহুল আমিন ও সবশেষ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উড়ে যাওয়া মাস্টার ব্রিজের ভেতর থেকে ইঞ্জিন ড্রাইভার সরোয়ার হোসেন আকরামের মরদেহ উদ্ধার করেন কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এর আগে রোববার বেলা ২টার দিকে জাহাজের ইঞ্জিন রুমের ভেতর থেকে গ্রিজার আব্দুস ছালাম হৃদয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক ও উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীকের কমান্ডার মো. সেলিম বলেন, ‘গতকাল নিখোঁজ তিনজনের ও গত রোববার একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।’
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাফায়েত বলেন, ‘বিকাল ৫টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নিখোঁজ চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে সাগর নন্দিনী-২ নামে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণে মাস্টার কেবিন ও স্টাফ কেবিনসহ ইঞ্জিন রুমের উপরি ভাগ উড়ে যায় এবং ডুবে যায়। এ ঘটনায় চারজন নিহত ও চারজন দগ্ধ হন।
ফের বিস্ফোরণে দগ্ধ ১২: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বিস্ফোরিত জাহাজ সাগর নন্দিনী-২ থেকে তেল অপসারণের সময় ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে পৌরসভার খেয়াঘাটসংলগ্ন সুগন্ধা নদীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১২ পুলিশ সদস্য দগ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছিল। দগ্ধদের মধ্যে শওকত ও দীপ নামে গুরুতর দগ্ধ দুই পুলিশ সদস্যকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply