বগুড়া শহরে করতোয়া নদীর ফতেহ আলী ব্রিজ ভাঙার পর মানুষজন পারাপারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল বাঁশের সেতু। প্রায় পাঁচ মাস আগে নির্মিত সেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এখন পাশেই প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে তৈরি হচ্ছে একটি ভাসমান সেতু। আসন্ন দুর্গাপূজায় বাঁশের সেতুর ওপরে চাপ কমাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সওজ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বগুড়ার তিন উপজেলা যথাক্রমে গাবতলী, সারিয়াকান্দি, সোনাতলাসহ করতোয়ার পূর্বতীরের মানুষের যাতায়াতের জন্য ১৯৬২ সালে ফতেহ আলী বাজারের পাশে নদীর ওপরে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়।

২০১৮ সালের আগস্টে এই সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। তার পর থেকে রিকশা-ভ্যানসহ ছোট যান পারাপারের পাশাপাশি মানুষজন হেঁটে সেতু পারাপার হচ্ছিল। পরে সেখানে একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৩১ জুলাই সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে ফতেহ আলী সেতুর নকশা ও অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন হয়।
গত ২২ মে ৬৯ মিটার দীর্ঘ আর ১২.৩ মিটার চওড়া এই সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু। এ জন্য আগের সেতুটি ভেঙে ফেলে সওজ। সেতু ভাঙার পর যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় উভয় পাশের মানুষের। তাই বিকল্প হিসেবে বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

বগুড়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, নদীর পূর্বতীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বেশ কয়েকটি মন্দির ও মণ্ডপ থাকায় আসন্ন দুর্গাপূজায় লোক সমাগম বাড়বে, বাঁশের সেতুতেও চাপ বৃদ্ধি পাবে। তাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বাঁশের সেতুর পাশে নির্মাণ হচ্ছে ভাসমান সেতুটি।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মূল সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই শতাধিক ড্রাম দিয়ে ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করছে। ড্রামগুলো নদীর পানিতে ভেসে থাকবে। পানি বৃদ্ধি পেলে তা ওপরে উঠবে এবং পানি কমলে তা নেমে যাবে।
আগামী ২০ অক্টোবরের আগেই এটা চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং মূল সেতু নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালু থাকবে।
Leave a Reply